ঢাকা ১০:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বান্দরবানে জীববৈচিত্র সংরক্ষণ ও পরিবেশ সুরক্ষা বিষয়ক কর্মসূচি ধুনটে ককটেল হামলা মামলায় ছাত্রলীগ নেতা আরাফাত হোসেন গ্রেপ্তার হাইমচর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রোগীদের খাদ্য তালিকায় প্রচুর অনিয়মের অভিযোগ হাইমচরে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী হত্যা মামলায়—স্বামী অভিযুক্ত। বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় সুনামগঞ্জে দোয়া মাহফিল ও খাবার বিতরণ, নেতৃত্বে এড. নুরুল ইসলাম নুরুল ঢাকার উত্তরায় বসছে ‘সোহানা ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস অ্যাওয়ার্ড-২০২৫’-এর জমকালো আসর খুলনায় আদালত চত্বরে ডাবল মার্ডার আমি সুযোগ পেলে অবহেলিত দাকোপের উন্নয়ন করে বঞ্চনার অবসান ঘটাবো : এজাজ খান গণভোটের দাবিতে খুলনায় আট দলের বিভাগীয় সমাবেশ : পাবলা সবুজ সংঘ ক্লাবের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান ও বার্ষিক বনভোজন-২০২৫” অনুষ্ঠিত

হাইমচরে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী হত্যা মামলায়—স্বামী অভিযুক্ত।

চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার ৪নং নীলকমল ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের রাঢ়ী কান্দি গ্রামে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা নারী কাকলি আক্তার হত্যাকাণ্ডে স্বামী মোঃ জহিরুল ইসলামকে অভিযুক্ত করে উঠেছে ক্ষোভ ও বেদনার ঝড়।

স্থানীয়দের দাবি—বাড়ির পাশের ধানক্ষেতে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে তাকে। এ ঘটনার দ্রুত বিচার দাবি করছেন স্বজন ও এলাকাবাসী। এ তথ্য এলাকাবাসীর অভিযোগভিত্তিক, তদন্তাধীন। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন প্রেমের পর গ্রামের ইউপি সদস্য বাচ্চু সরকারের ভগ্নিবতী ও মোঃ রব চকিদারের ছেলে মোঃ মনির চকিদারের মধ্যস্থতায় গোপনে বিয়ে করেন কাকলি ও জহিরুল। তবে বিয়ের পর থেকেই তাদের দাম্পত্য জীবনে নেমে আসে অস্থিরতা, কথা–কাটাকাটি আর বিরোধ ছিল নিত্যদিনের সঙ্গী।

ঘটনার আগে কাকলি মায়ের বাড়িতে ছিলেন। সেখান থেকে স্বামী ফোন করে তাকে বাড়ি ফেরার অনুরোধ করেন। পরদিন সকালে ধানক্ষেতের পাশে পড়ে থাকতে দেখা যায় তার ব্যবহৃত ব্যাগ ও জুতা। কিছুক্ষণ পর মাঠে কাজ করতে যাওয়া এক কৃষকের চোখে পড়ে ধানক্ষেতের ভেতরে কাকলির নিথর দেহ, আর সঙ্গে শেষ হয়ে যায় গর্ভে থাকা সাত মাসের আরেকটি জীবনও। খবর পেয়ে ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মনির শিকদার ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রশাসনকে অবহিত করেন। পরে থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায় এবং দাফনের ব্যবস্থা সম্পন্ন করা হয়।

এলাকার এক মুরব্বি সাইফুল ইসলাম বলেন—এটি একটি নিষ্ঠুর হত্যা। আমরা চাই প্রকৃত রহস্য উদঘাটিত হোক, হত্যাকারীরা যেই হোক আইনের কঠোর শাস্তি পাক।

গ্রামজুড়ে এখন একটাই দাবি— অন্তঃসত্ত্বা কাকলির মৃত্যুর বিচার চাই, দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

হাইমচর আজ ন্যায়বিচারের অপেক্ষায়— দুটি নিভে যাওয়া প্রাণের নীরব প্রশ্ন আকাশে ঝুলে আছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

বার্তা বিভাগ

মিডিয়া তালিকাভুক্ত জাতীয় দৈনিক নববাণী পত্রিকার জন্য সকল জেলা উপজেলায় সংবাদ কর্মী আবশ্যকঃ- আগ্রহীরা আজই আবেদন করুন। মেইল: [email protected]
জনপ্রিয় সংবাদ

বান্দরবানে জীববৈচিত্র সংরক্ষণ ও পরিবেশ সুরক্ষা বিষয়ক কর্মসূচি

হাইমচরে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী হত্যা মামলায়—স্বামী অভিযুক্ত।

আপডেট সময় ০৯:১৭:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫

চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার ৪নং নীলকমল ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের রাঢ়ী কান্দি গ্রামে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা নারী কাকলি আক্তার হত্যাকাণ্ডে স্বামী মোঃ জহিরুল ইসলামকে অভিযুক্ত করে উঠেছে ক্ষোভ ও বেদনার ঝড়।

স্থানীয়দের দাবি—বাড়ির পাশের ধানক্ষেতে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে তাকে। এ ঘটনার দ্রুত বিচার দাবি করছেন স্বজন ও এলাকাবাসী। এ তথ্য এলাকাবাসীর অভিযোগভিত্তিক, তদন্তাধীন। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন প্রেমের পর গ্রামের ইউপি সদস্য বাচ্চু সরকারের ভগ্নিবতী ও মোঃ রব চকিদারের ছেলে মোঃ মনির চকিদারের মধ্যস্থতায় গোপনে বিয়ে করেন কাকলি ও জহিরুল। তবে বিয়ের পর থেকেই তাদের দাম্পত্য জীবনে নেমে আসে অস্থিরতা, কথা–কাটাকাটি আর বিরোধ ছিল নিত্যদিনের সঙ্গী।

ঘটনার আগে কাকলি মায়ের বাড়িতে ছিলেন। সেখান থেকে স্বামী ফোন করে তাকে বাড়ি ফেরার অনুরোধ করেন। পরদিন সকালে ধানক্ষেতের পাশে পড়ে থাকতে দেখা যায় তার ব্যবহৃত ব্যাগ ও জুতা। কিছুক্ষণ পর মাঠে কাজ করতে যাওয়া এক কৃষকের চোখে পড়ে ধানক্ষেতের ভেতরে কাকলির নিথর দেহ, আর সঙ্গে শেষ হয়ে যায় গর্ভে থাকা সাত মাসের আরেকটি জীবনও। খবর পেয়ে ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মনির শিকদার ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রশাসনকে অবহিত করেন। পরে থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায় এবং দাফনের ব্যবস্থা সম্পন্ন করা হয়।

এলাকার এক মুরব্বি সাইফুল ইসলাম বলেন—এটি একটি নিষ্ঠুর হত্যা। আমরা চাই প্রকৃত রহস্য উদঘাটিত হোক, হত্যাকারীরা যেই হোক আইনের কঠোর শাস্তি পাক।

গ্রামজুড়ে এখন একটাই দাবি— অন্তঃসত্ত্বা কাকলির মৃত্যুর বিচার চাই, দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

হাইমচর আজ ন্যায়বিচারের অপেক্ষায়— দুটি নিভে যাওয়া প্রাণের নীরব প্রশ্ন আকাশে ঝুলে আছে।