ঢাকা ০৫:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুলাই ২০২৪, ২ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

“সংবাদ প্রকাশের পরেও থামছেনা দুর্গাপুর উপজেলার মাটি বিক্রয়ের সিন্ডিকেট”

রাজশাহী জেলার দুর্গাপুর উপজেলা রাজশাহীর বিখ্যাত পান চাষের জন্য উপযোগী। এখন পর্যন্ত রাজশাহীর পান সারা বাংলাদেশে পবা উপজেলা থেকে বেশিরভাগ বিক্রয় হয়েথাকে। পবা উপজেলার পাশাপাশি দুর্গাপুর উপজেলাও হয়ে উঠছে পান চাষের সেরা।কিন্তু কৃষকদের অভিযোগ সেটা কতদিন টিকিয়ে রাখতে পারবে জানে না। এর কারণ একের পর এক ফসলি জমি হয়ে উঠছে পুকুর। যার কারণে পান সহ অন্যান্য ফসল উৎপাদনে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষকরা।

দুর্গাপুর উপজেলার মাটি বিক্রয়ের সিন্ডিকেট সংবাদ প্রকাশের পরেও থামছে না। কিছুদিন আগে সংবাদ প্রকাশের পর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) স্বীকৃতি প্রামাণিক সমস্ত দুর্গাপুর উপজেলায় অভিযান চালিয়ে দুইজনের কারাদণ্ড সহ কয়েকটি পয়েন্টে ব্যাটারি জব্দ করে।সেই ব্যাটারিগুলো ৪-৫ দিন পরেই রহস্যজনকভাবে আবার পেয়ে যায় সিন্ডিকেটের হোতারা। এইজন্য এলাকাবাসীরা অভিযোগ উঠায় থানা আর উপজেলা ভূমি অফিস একত্রে মিলিত হয়ে এই সিন্ডিকেট পরিচালনা করে এছাড়া এর সাথে রয়েছেন কিছু পাতি নেতাও। এরা এমপি ও চেয়ারম্যানের নাম ভাঙ্গিয়ে আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে একের পর এক খনন কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।বর্তমানে দুর্গাপুর উপজেলায় পুকুর খনন একটি ব্যবসা হিসেবে দাঁড়িয়েছে।

সরজমিনে গতকাল ১২ জুন (বুধবার) দুর্গাপুর উপজেলায় গিয়ে এলাকাবাসীর কাছে জানা যায়, সরকার যেখানে আইন করেছে সেই আইনকে অমান্য করাটাই এরা ব্যবসা বানিয়ে রেখেছে। এই সমস্ত পাতি নেতাদের নিজের জমি না থাকলেও অন্যের জমি টাকার বিনিময়ে খনন করে দেয়। কারো কারো কাছে টাকা নিয়ে পুকুর সংস্কারের উপজেলা ভূমি অফিস থেকে মৌখিকভাবে অনুমতি নিয়ে রাতের আঁধারে পুকুর খনন এর সাথে মাটি বিক্রয়ের উৎসব পালন করে। রাতে টহল পুলিশের সামনে দিয়ে একের পর এক ট্রাক নয়তো কাকরা গাড়িতে মাটি পরিবহন চলে তবু সেটা পুলিশের নজরেই পড়ে না। প্রশাসন চাইলে একটা গাড়ি মাটি নিয়ে ইট ভাটায় যাওয়ার সাহস পাবে না।সেখানে রহস্যজনকভাবে কেন নীরব হয়ে থাকে? মাটি পরিবহনের জন্য আমাদের দুর্গাপুরের রাস্তাগুলি নষ্ট হতে চলেছে তবুও উপজেলা ভূমি অফিস ও থানার নজরে পড়ে না।

ফসল উৎপাদনের খরচ বেশি হওয়ায় এমনি কৃষকরা সবসময় অবহেলিত হয়ে থাকে। এখন তাদের জমির পাশে অন্যজন পুকুর করায় তাদের ফসল উৎপাদন ভালো হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন স্থানীয় কৃষকরা। তাদের ফসলি জমি বাঁচানোর জন্য তারা কখনো থানায় অভিযোগ দিতে গেলে পুলিশ বলে আপনি এসিল্যান্ডের সাথে কথা বলেন। এসি ল্যান্ডের কাছে গেলে তিনি বলে ইউএনও ম্যাডামের সাথে কথা বলুন। ইউএনও ম্যাডাম দেখব, দেখছি ,করছি ,ব্যবস্থা নিচ্ছি, লিখিত অভিযোগ দেন এইভাবে করতে করতে রাতের আঁধারে ফসলি জমি হয়ে ওঠে পুকুর। নষ্ট হচ্ছে আশেপাশের জমির কৃষকদের ফসল সাথে মাটি পরিবহনের জন্য রাস্তাগুলির বেহাল অবস্থা।

উল্লেখ্য সমস্ত দুর্গাপুর উপজেলায় প্রায় ২০ টার মত পুকুর সংস্কার ও তিন ফসলি জমি কেটে পুকুর খনন হচ্ছে।

কৃষকদের এই সমস্ত কথা সত্য কিনা জানতে দুর্গাপুর উপজেলার তিনটি স্থানের তথ্য থানায় দেওয়া হয়।দূর্গাপুর থানার ওসি খায়রুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে আমার করার কিছু থাকে না, ইওএনও অথবা এসিল্যান্ডকে কে বলেন উনারা বললে আমি অভিযানে যাবো।

দুর্গাপুর উপজেলার এসিল্যান্ড সুমন চৌধুরীকে একটি পুকুরের তথ্য দেওয়ায় তিনি বলেন, অভিযানে ব্যবস্থা নেব। ২৪ ঘণ্টা পর কি আপডেট জানতে চাওয়ায় তাকে ফোন দেওয়ায় উনি ফোন রিসিভ করেন নাই। একাধিকবার কল দেওয়ার পরেও ফোন না ধরায় আরো দুইটা লোকেশন খননকারীর নাম সহ হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ দিলেও তারও কোন ব্যবস্থাই গ্রহণ করেন নি।

এছাড়া দুর্গাপুর উপজেলার নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) স্বীকৃতি প্রামানিককে হোয়াটসঅ্যাপে তথ্য দেওয়া হলে তিনিও কোনো ব্যবস্থা নেন নাই, কল রিসিভও করেন নাই সাংবাদিকদের।সে কারণে তার বক্তব্য আর অভিযান পরিচালনা করবে কিনা সেটা জানা যায় নি।

এদিকে এ বিষয়ে জানতে রাজশাহী জেলা প্রশাসক শামীম আহমেদ এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনিও ফোন রিসিভ করেন নি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

Daily Naba Bani

মিডিয়া তালিকাভুক্ত জাতীয় দৈনিক নববাণী পত্রিকার জন্য সকল জেলা উপজেলায় সংবাদ কর্মী আবশ্যকঃ- আগ্রহীরা আজই আবেদন করুন। মেইল: 24nababani@gmail.com
জনপ্রিয় সংবাদ

বান্দরবানকে স্মার্ট পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে: ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ।

“সংবাদ প্রকাশের পরেও থামছেনা দুর্গাপুর উপজেলার মাটি বিক্রয়ের সিন্ডিকেট”

আপডেট সময় ১০:০৯:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ জুন ২০২৪

রাজশাহী জেলার দুর্গাপুর উপজেলা রাজশাহীর বিখ্যাত পান চাষের জন্য উপযোগী। এখন পর্যন্ত রাজশাহীর পান সারা বাংলাদেশে পবা উপজেলা থেকে বেশিরভাগ বিক্রয় হয়েথাকে। পবা উপজেলার পাশাপাশি দুর্গাপুর উপজেলাও হয়ে উঠছে পান চাষের সেরা।কিন্তু কৃষকদের অভিযোগ সেটা কতদিন টিকিয়ে রাখতে পারবে জানে না। এর কারণ একের পর এক ফসলি জমি হয়ে উঠছে পুকুর। যার কারণে পান সহ অন্যান্য ফসল উৎপাদনে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষকরা।

দুর্গাপুর উপজেলার মাটি বিক্রয়ের সিন্ডিকেট সংবাদ প্রকাশের পরেও থামছে না। কিছুদিন আগে সংবাদ প্রকাশের পর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) স্বীকৃতি প্রামাণিক সমস্ত দুর্গাপুর উপজেলায় অভিযান চালিয়ে দুইজনের কারাদণ্ড সহ কয়েকটি পয়েন্টে ব্যাটারি জব্দ করে।সেই ব্যাটারিগুলো ৪-৫ দিন পরেই রহস্যজনকভাবে আবার পেয়ে যায় সিন্ডিকেটের হোতারা। এইজন্য এলাকাবাসীরা অভিযোগ উঠায় থানা আর উপজেলা ভূমি অফিস একত্রে মিলিত হয়ে এই সিন্ডিকেট পরিচালনা করে এছাড়া এর সাথে রয়েছেন কিছু পাতি নেতাও। এরা এমপি ও চেয়ারম্যানের নাম ভাঙ্গিয়ে আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে একের পর এক খনন কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।বর্তমানে দুর্গাপুর উপজেলায় পুকুর খনন একটি ব্যবসা হিসেবে দাঁড়িয়েছে।

সরজমিনে গতকাল ১২ জুন (বুধবার) দুর্গাপুর উপজেলায় গিয়ে এলাকাবাসীর কাছে জানা যায়, সরকার যেখানে আইন করেছে সেই আইনকে অমান্য করাটাই এরা ব্যবসা বানিয়ে রেখেছে। এই সমস্ত পাতি নেতাদের নিজের জমি না থাকলেও অন্যের জমি টাকার বিনিময়ে খনন করে দেয়। কারো কারো কাছে টাকা নিয়ে পুকুর সংস্কারের উপজেলা ভূমি অফিস থেকে মৌখিকভাবে অনুমতি নিয়ে রাতের আঁধারে পুকুর খনন এর সাথে মাটি বিক্রয়ের উৎসব পালন করে। রাতে টহল পুলিশের সামনে দিয়ে একের পর এক ট্রাক নয়তো কাকরা গাড়িতে মাটি পরিবহন চলে তবু সেটা পুলিশের নজরেই পড়ে না। প্রশাসন চাইলে একটা গাড়ি মাটি নিয়ে ইট ভাটায় যাওয়ার সাহস পাবে না।সেখানে রহস্যজনকভাবে কেন নীরব হয়ে থাকে? মাটি পরিবহনের জন্য আমাদের দুর্গাপুরের রাস্তাগুলি নষ্ট হতে চলেছে তবুও উপজেলা ভূমি অফিস ও থানার নজরে পড়ে না।

ফসল উৎপাদনের খরচ বেশি হওয়ায় এমনি কৃষকরা সবসময় অবহেলিত হয়ে থাকে। এখন তাদের জমির পাশে অন্যজন পুকুর করায় তাদের ফসল উৎপাদন ভালো হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন স্থানীয় কৃষকরা। তাদের ফসলি জমি বাঁচানোর জন্য তারা কখনো থানায় অভিযোগ দিতে গেলে পুলিশ বলে আপনি এসিল্যান্ডের সাথে কথা বলেন। এসি ল্যান্ডের কাছে গেলে তিনি বলে ইউএনও ম্যাডামের সাথে কথা বলুন। ইউএনও ম্যাডাম দেখব, দেখছি ,করছি ,ব্যবস্থা নিচ্ছি, লিখিত অভিযোগ দেন এইভাবে করতে করতে রাতের আঁধারে ফসলি জমি হয়ে ওঠে পুকুর। নষ্ট হচ্ছে আশেপাশের জমির কৃষকদের ফসল সাথে মাটি পরিবহনের জন্য রাস্তাগুলির বেহাল অবস্থা।

উল্লেখ্য সমস্ত দুর্গাপুর উপজেলায় প্রায় ২০ টার মত পুকুর সংস্কার ও তিন ফসলি জমি কেটে পুকুর খনন হচ্ছে।

কৃষকদের এই সমস্ত কথা সত্য কিনা জানতে দুর্গাপুর উপজেলার তিনটি স্থানের তথ্য থানায় দেওয়া হয়।দূর্গাপুর থানার ওসি খায়রুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে আমার করার কিছু থাকে না, ইওএনও অথবা এসিল্যান্ডকে কে বলেন উনারা বললে আমি অভিযানে যাবো।

দুর্গাপুর উপজেলার এসিল্যান্ড সুমন চৌধুরীকে একটি পুকুরের তথ্য দেওয়ায় তিনি বলেন, অভিযানে ব্যবস্থা নেব। ২৪ ঘণ্টা পর কি আপডেট জানতে চাওয়ায় তাকে ফোন দেওয়ায় উনি ফোন রিসিভ করেন নাই। একাধিকবার কল দেওয়ার পরেও ফোন না ধরায় আরো দুইটা লোকেশন খননকারীর নাম সহ হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ দিলেও তারও কোন ব্যবস্থাই গ্রহণ করেন নি।

এছাড়া দুর্গাপুর উপজেলার নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) স্বীকৃতি প্রামানিককে হোয়াটসঅ্যাপে তথ্য দেওয়া হলে তিনিও কোনো ব্যবস্থা নেন নাই, কল রিসিভও করেন নাই সাংবাদিকদের।সে কারণে তার বক্তব্য আর অভিযান পরিচালনা করবে কিনা সেটা জানা যায় নি।

এদিকে এ বিষয়ে জানতে রাজশাহী জেলা প্রশাসক শামীম আহমেদ এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনিও ফোন রিসিভ করেন নি।