
গ্রামীণ জীবিকা উন্নয়ন এবং কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিকে টেকসই করার লক্ষ্যে আজ শনিবার শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে ‘মহারশি ফ্ল্যাগশিপ উপ-প্রকল্প’ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে। জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) যৌথভাবে এই উপ-প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এটি ‘ক্ষুদ্রাকার পানি সম্পদ উন্নয়ন প্রকল্প, ফেজ-২’-এর আওতাধীন একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ, যার লক্ষ্য গ্রামীণ উৎপাদন ব্যবস্থা, সেচব্যবস্থা ও কৃষিভিত্তিক ব্যবসা সম্প্রসারণকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় কৃষক, সরকারি কর্মকর্তা, প্রকল্প সংশ্লিষ্ট ও সাধারণ জনগণ অংশগ্রহণ করেছেন।
মহারশি ফ্ল্যাগশিপ উপ-প্রকল্পটি মহারশি নদীর পানি ব্যবহার করে মোট এক হাজার দুইশো পঞ্চাশ হেক্টর কৃষিজমিকে সেচ সুবিধার আওতায় এনেছে। এর মধ্যে এক হাজার হেক্টর জমি সরাসরি এই প্রকল্প থেকে সেচ পাচ্ছে। এতে শেরপুরের ঝিনাইগাতী অঞ্চলের দুই হাজার চারশো পাঁচ পরিবারের মধ্যে অন্তত এক হাজার চারশো বিশ পরিবার বর্তমানে এই উন্নত সেচ সুবিধার সুফলভোগী। প্রকল্পটির অর্থনৈতিক অভ্যন্তরীণ মুনাফার হার (ইআইআরআর) বারো দশমিক নয় শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদে এর টেকসইতা ও আর্থিক বাস্তবতা নিশ্চিত করে।
উদ্যোগটির মূল লক্ষ্য হলো—বছরজুড়ে সেচ সুবিধা নিশ্চিত করা, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি করা এবং দক্ষ পানি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কৃষকের আয় বাড়ানো। পাশাপাশি একটি পূর্ণাঙ্গ কৃষিভিত্তিক ব্যবসা কেন্দ্র (এর্গি-বিজনেস সেন্টার) প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে কৃষিপণ্যের প্রক্রিয়াকরণ, সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ আরও সহজ হবে। উন্নত গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির (পাবসস) সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে প্রকল্পের অবকাঠামো দীর্ঘস্থায়ীভাবে রক্ষণাবেক্ষণের উপযোগী হয়ে উঠবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জাইকা বাংলাদেশ কার্যালয়ের প্রধান প্রতিনিধি ইচিগুচি তোমোহিদে বলেন, গত বাহান্ন বছর ধরে জাইকা বাংলাদেশের পাশে রয়েছে। মহারশি ফ্ল্যাগশিপ উপ-প্রকল্পটি শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, এটি মানুষের জীবনধারা পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি। প্রথম সফল ফ্ল্যাগশিপ উপ-প্রকল্প হিসেবে এটি সমন্বিত গ্রামীণ উন্নয়নের নতুন মানদণ্ড তৈরি করেছে। সরকার, জাইকা এবং স্থানীয় জনগণ এক সাথে কাজ করলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি থেকে শক্তিশালী কমিউনিটি গঠন—সবই অর্জন করা সম্ভব হবে। অনুষ্ঠানটিতে উপস্থিত ছিলেন জাইকার সিনিয়র প্রতিনিধি শোজি ইজুমি, এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী জাভেদ করিম, ক্ষুদ্রাকার পানি সম্পদ উন্নয়ন প্রকল্প (ফেজ-২)-এর প্রকল্প পরিচালক সানিউল হক, নিপ্পন কোই পরামর্শক দলের টিম লিডার ইয়োজিরো সেকিগুচি, ময়মনসিংহ বিভাগ ও শেরপুর জেলার অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ও নির্বাহী প্রকৌশলীরা, এলজিইডির বিভিন্ন প্রকল্প পরিচালক এবং পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির সদস্য ও স্থানীয় উপকারভোগী কৃষকরা।
মহারশি ফ্ল্যাগশিপ উপ-প্রকল্পটি বাংলাদেশের গ্রামীণ কৃষিনির্ভর অর্থনীতিতে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। সেচব্যবস্থার উন্নয়ন, পানি ব্যবস্থাপনা দক্ষতা বৃদ্ধি, কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ সহজীকরণ এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে প্রকল্পটি গ্রামীণ জীবিকার টেকসই পরিবর্তনে ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদী।
খায়রুল আলম সুমন, বিশেষ প্রতিনিধি : 









