
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা আলোচিত দুর্নীতি মামলায় পাবনার বিশেষ জজ আদালত মোছাঃ আসমা পারভীন (ইগেনা) ও তাঁর স্বামী মোঃ জাহিদ হোসেনকে পৃথক দুটি মামলায় মোট পাঁচ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন। এছাড়াও দু’জনকেই পৃথকভাবে প্রায় ৫৪ লাখ টাকা করে মোট প্রায় এক কোটি আট লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে এবং তাঁদের স্থাবরুঅস্থাবর সমস্ত সম্পত্তি রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর ২০২৫) বিশেষ জজ (জেলা জজ) আবু সালেহ মোঃ সালাহউদ্দিন খাঁ এই রায় ঘোষণা করেন।
রায়ের বিবরণীতে জানা যায়, ঈশ্বরদীর পূর্বটেংরী জিগাতলা এলাকার বাসিন্দা মোছাঃ আসমা পারভীনকে দুদক আইন ২০০৪ এর ২৬(২) ধারায় দুই বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও পাঁচ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড এবং ২৭(১) ধারায় পাঁচ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও আটচল্লিশ লাখ নিরানব্বই হাজার তিনশত পঁয়ষট্টি টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। অন্যদিকে, দলিল লেখকের সহকারী মোঃ জাহিদ হোসেন এসএসসি পাশের জাল সার্টিফিকেট দিয়ে দলিল লেখকের লাইসেন্স করেছিলেন, যা প্রমাণিত হওয়ায় তাঁর লাইসেন্স বাতিল হয়ে যায়। তবে এর পরেও তাঁর দুর্নীতি থেমে থাকেনি।
একই তদন্তের ভিত্তিতে দায়েরকৃত পৃথক স্পেশাল মামলা নং ০৩/২০২১ুএ আদালত তাঁকে দুদক আইন ২০০৪ এর ২৬(২)/দণ্ডবিধি ১০৯ ধারায় দুই বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও পাঁচ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড এবং দুদক আইন ২০০৪ এর ২৭(১)/দণ্ডবিধি ১০৯ ধারায় পাঁচ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও আটচল্লিশ লাখ নিরানব্বই হাজার তিনশত পঁয়ষট্টি টাকা অর্থদণ্ড দেন। আদালত নির্দেশ দেন যে উভয় আসামির সাজা একত্রে (Concurrently) কার্যকর হবে এবং পূর্বের হাজতবাসকাল দণ্ড থেকে সমন্বয়যোগ্য থাকবে। আদালত রায়ের দিন থেকে ৩০ দিনের মধ্যে অর্থদণ্ড রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। অন্যথায় ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৮৬(১)(বি) অনুযায়ী অর্থদণ্ড আদায়ের প্রক্রিয়া গ্রহণ করবে রাষ্ট্র।
এছাড়াও, উভয় আসামির নামীয় সব স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ এসেছে আদালত থেকে। রায় ঘোষণার পর সাজা পরোয়ানা মূলে দু’জনকে পাবনা জেলা কারাগারে পাঠানো হয় এবং জেল সুপারকে সাজা বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
মামলার পটভূমিতে জানা যায়, ২০১৯ সালের ২৩ অক্টোবর দুদক পাবনার ঈশ্বরদী এলাকায় অনিয়ম, জালিয়াতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে তদন্ত শুরু করে। তদন্তের ভিত্তিতে একই বছরের মামলার (নং ৭/২০১৯) ওপর ভিত্তি করে ২০২১ সালে দুইটি পৃথক স্পেশাল মামলা দায়ের হয়। দীর্ঘ চার বছর ধরে সাক্ষ্যুপ্রমাণ ও শুনানি শেষে আদালত এ মামলার চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করেন।
ঈশ্বরদী প্রতিনিধি : 









