ঢাকা ০৪:৩৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বান্দরবানে জীববৈচিত্র সংরক্ষণ ও পরিবেশ সুরক্ষা বিষয়ক কর্মসূচি ধুনটে ককটেল হামলা মামলায় ছাত্রলীগ নেতা আরাফাত হোসেন গ্রেপ্তার হাইমচর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রোগীদের খাদ্য তালিকায় প্রচুর অনিয়মের অভিযোগ হাইমচরে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী হত্যা মামলায়—স্বামী অভিযুক্ত। বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় সুনামগঞ্জে দোয়া মাহফিল ও খাবার বিতরণ, নেতৃত্বে এড. নুরুল ইসলাম নুরুল ঢাকার উত্তরায় বসছে ‘সোহানা ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস অ্যাওয়ার্ড-২০২৫’-এর জমকালো আসর খুলনায় আদালত চত্বরে ডাবল মার্ডার আমি সুযোগ পেলে অবহেলিত দাকোপের উন্নয়ন করে বঞ্চনার অবসান ঘটাবো : এজাজ খান গণভোটের দাবিতে খুলনায় আট দলের বিভাগীয় সমাবেশ : পাবলা সবুজ সংঘ ক্লাবের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান ও বার্ষিক বনভোজন-২০২৫” অনুষ্ঠিত

শেরপুর দুধের বাজারে ঘোষদের সিন্ডিকেট

বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় দুধের বাজারে একটি প্রভাবশালী ঘোষ সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না স্থানীয় দুধ উৎপাদনকারী খামারিরা—এমন অভিযোগ উঠেছে বিভিন্ন খামারিদের কাছ থেকে। পার্শ্ববর্তী উপজেলাগুলোতে যেখানে প্রতি লিটার দুধ ৫৫–৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, সেখানে শেরপুরে দীর্ঘদিন ধরে প্রতি লিটার দুধ বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৩৭–৪৫ টাকায়। ফলে লোকসানের বোঝা বইতে হচ্ছে ছোট ও মাঝারি খামারিদের।

খামারিদের অভিযোগ, স্থানীয় ঘোষদের একটি সংগঠিত চক্র দুধ সংগ্রহ ও বাজারজাতকরণ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করছে। তারা যে দাম নির্ধারণ করে, তার বাইরে দুধ বিক্রি করা যায় না। উৎপাদন খরচ দিন দিন বাড়লেও দুধের দাম বাড়ছে না; বরং কম দামে দুধ বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন সবাই। এক খামারি বলেন, “গাভী লালন-পালনের খরচ অনেক বেড়ে গেছে। খাবার, ওষুধ, চিকিৎসা—সবকিছুর দাম এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি। কিন্তু ঘোষরা যে দাম দেয়, তা দিয়ে কোনোভাবেই টিকে থাকা সম্ভব নয়। এই অবস্থায় অনেকে খামার বন্ধ করে দিতে বাধ্য হবেন।”

এদিকে গো-খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে পরিস্থিতি আরও সংকটাপন্ন হয়ে উঠেছে। বর্তমানে প্রতি কেজি ভুসির দাম প্রায় ৫০ টাকা হলেও খামারিরা দুধ বিক্রি করছেন সর্বনিম্ন ৩৭ টাকায়। এতে গাভীর খাবার জোগাড় করতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের।

এ বিষয়ে শেরপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা নিয়াজ কাজমীর বলেন, “খামারিরা দেশের প্রাণ। তারা যেন ক্ষতির মুখে না পড়েন, সে বিষয়ে প্রশাসনের সবার সচেতন থাকা প্রয়োজন। দুধের বাজারে যদি কোনো সিন্ডিকেট খামারিদের ক্ষতিগ্রস্ত করে, তবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে বাজারে মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা করা হবে।”

খামারিরা অবিলম্বে বাজারে প্রশাসনিক তদারকি, সিন্ডিকেট ভাঙা এবং ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে দুধ উৎপাদন শিল্প বড় ধরনের ধসের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

বার্তা বিভাগ

মিডিয়া তালিকাভুক্ত জাতীয় দৈনিক নববাণী পত্রিকার জন্য সকল জেলা উপজেলায় সংবাদ কর্মী আবশ্যকঃ- আগ্রহীরা আজই আবেদন করুন। মেইল: [email protected]
জনপ্রিয় সংবাদ

বান্দরবানে জীববৈচিত্র সংরক্ষণ ও পরিবেশ সুরক্ষা বিষয়ক কর্মসূচি

শেরপুর দুধের বাজারে ঘোষদের সিন্ডিকেট

আপডেট সময় ১১:০৬:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ নভেম্বর ২০২৫

বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় দুধের বাজারে একটি প্রভাবশালী ঘোষ সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না স্থানীয় দুধ উৎপাদনকারী খামারিরা—এমন অভিযোগ উঠেছে বিভিন্ন খামারিদের কাছ থেকে। পার্শ্ববর্তী উপজেলাগুলোতে যেখানে প্রতি লিটার দুধ ৫৫–৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, সেখানে শেরপুরে দীর্ঘদিন ধরে প্রতি লিটার দুধ বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৩৭–৪৫ টাকায়। ফলে লোকসানের বোঝা বইতে হচ্ছে ছোট ও মাঝারি খামারিদের।

খামারিদের অভিযোগ, স্থানীয় ঘোষদের একটি সংগঠিত চক্র দুধ সংগ্রহ ও বাজারজাতকরণ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করছে। তারা যে দাম নির্ধারণ করে, তার বাইরে দুধ বিক্রি করা যায় না। উৎপাদন খরচ দিন দিন বাড়লেও দুধের দাম বাড়ছে না; বরং কম দামে দুধ বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন সবাই। এক খামারি বলেন, “গাভী লালন-পালনের খরচ অনেক বেড়ে গেছে। খাবার, ওষুধ, চিকিৎসা—সবকিছুর দাম এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি। কিন্তু ঘোষরা যে দাম দেয়, তা দিয়ে কোনোভাবেই টিকে থাকা সম্ভব নয়। এই অবস্থায় অনেকে খামার বন্ধ করে দিতে বাধ্য হবেন।”

এদিকে গো-খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে পরিস্থিতি আরও সংকটাপন্ন হয়ে উঠেছে। বর্তমানে প্রতি কেজি ভুসির দাম প্রায় ৫০ টাকা হলেও খামারিরা দুধ বিক্রি করছেন সর্বনিম্ন ৩৭ টাকায়। এতে গাভীর খাবার জোগাড় করতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের।

এ বিষয়ে শেরপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা নিয়াজ কাজমীর বলেন, “খামারিরা দেশের প্রাণ। তারা যেন ক্ষতির মুখে না পড়েন, সে বিষয়ে প্রশাসনের সবার সচেতন থাকা প্রয়োজন। দুধের বাজারে যদি কোনো সিন্ডিকেট খামারিদের ক্ষতিগ্রস্ত করে, তবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে বাজারে মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা করা হবে।”

খামারিরা অবিলম্বে বাজারে প্রশাসনিক তদারকি, সিন্ডিকেট ভাঙা এবং ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে দুধ উৎপাদন শিল্প বড় ধরনের ধসের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।